ইউটিউব থেকে ইনকাম করার উপায় ও পরিপূর্ণ গাইডলাইন।

Earning : ৳0.000

আপনি কি ইউটিউব চ্যানেল থেকে ইনকাম করতে চান? অনলাইনের বড় একটি জায়গা জুড়ে রয়েছে ইউটিউব। আপনি কি জানেন, ইউটিউব হচ্ছে পৃথিবীর বৃহত্তম সাইট গুলোর মধ্য ৩ নম্বর সাইট। সাইটের মধ্য ৩ নম্বরে পরলে কি হবে, ইউটিউব হচ্ছে পৃথিবীর ১ নম্বর ভিডিও শেয়ারিং সাইট।  

তাই, আপনি যদি ইউটিউব থেকে অনলাইনে ইনকামের চিন্তা করে থাকেন সে চিন্তা যে শতভাগ সঠিক তার গ্যরান্টি আমি আপনাকে দিচ্ছি।

ইউটিউব থেকে ইনকাম করার জন্য আপনাকে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে চলতে হবে। আশা করি সে নিয়ম গুলো মেনে চললে আপনি কয়েক মাসের মধ্যে ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে পারবেন। ইউটিউব থেকে ইনকাম কিভাবে শুরু করবেন, কতদিনে ইনকাম শুরু হবে, ইনকাম এর পরিমান কিভাবে বাড়াবেন এবং ইউটিউব চ্যানেল থেকে ইনকামের তথ্য সমূহ জানতে সম্পুর্ন লেখাটি শেষ করুন। 

ইউটিউবাররা টাকা কিভাবে ইনকাম করে

আপনি কি জানেন প্রতি মিনিটে ইউটিউবে ৪০০+ ঘন্টার ও বেশি ভিডিও আপলোড করা হয়। এসব ভিডিও ইউটিউবার রা আপলোড করে। যা আপনি আমি দেখি থাকি। আমরা মনে করে থাকি আমি একটি ভিডিও দেখলাম এতে বা তার কি ইনকাম সর্বোচ্চ আমি যে পরিমান এমবি খরচ করছি তার টাকা টা পাবে। আমাদের চিন্তা টা কিছুটা ঠিক তবে, সম্পুর্ন টা ঠিক না। আমাদের চিন্তা-ধারার মাঝে দুটো বৈশিষ্ট্য রয়েছে।বৈশিষ্ট্য দুটো হচ্ছে-

    1.আপনি ভিডিও টি দেখাতে ইউটিউবার এর খুবই কম ইনকাম হয়েছে

    2.ইউটিউবার এর যে টাকা ইনকাম হয়েছে তা হচ্ছে আপনার এমবি এর সমপরিমাণ টাকা

আমাদের প্রথম ধারণাটি ঠিক৷ আমাদের এই ভিডিও টি দেখার ফলে ইউটিউবার এর খুবই কম ইনকাম হয়েছে। কিন্তু, আপনি মনে হয় ভুলে যাচ্ছেন -বিন্দু বিন্দু পানি দিয়েই সাগর-মহাসাগর তৈরি। তেমনি আপনাদের এই এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টাকা দিয়ে ইউটিউবার বিশাল পরিমান টাকা ইনকাম করে থাকে।

আমরা দ্বিতীয় যে ধারনাটি করে থাকি সেটি হচ্ছে আপনার এমবি এর টাকার সমপরিমাণ টাকা ইউটিউবার রা পায়। আমাদের এই ধারনাটি একদমই ভুল। আমরা যে পরিমান এমবি খরচ করি তার একটা টাকা ও ইউটিউবার রা পায় না। তাহলে এই এমবি এর টাকা যায় কোথায়? যেহেতু, এটি ইউটিউব থেকে কিভাবে ইনকাম করা যায় সে সম্পর্কিত লেখা। তাই, এখানে অন্যান্য টপিক নিয়ে আলোচনা করতে চাই না আপনারা যারা উক্ত বিষয়টি নিয়ে জানতে ইচ্ছুক তারা কমেন্টে জানাতে পারেন। 

ইউটিউব থেকে ইনকামের ব্যাসিক স্টেপস

ইউটিউব চ্যানেল থেকে ইনকাম করার জন্য আপনাকে সর্বপ্রথম যে কাজটি করতে হবে তা হচ্ছে, আপনাকে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হবে।

ইউটিউব চ্যানেল খুলার পরে আপনাকে সেখানে ইউনিক ভিডিও আপলোড করতে হবে। যখন আপনার চ্যানেল অ্যাডসেন্স এর আবেদন এর জন্য উপযোগি তখন অ্যাডসেন্স আবেদন করুন।  

অ্যাডসেন্স আবেদন করার পরে তারা দেখবে আপনি তাদের সমস্ত নিয়ম মেনেছেন কি না। যদি মেনে থাকেন তো তারা আপনার চ্যানেলে অ্যাডসেন্স বসিয়ে দিবে। তখন থেকেই আপনার ইনকাম শুরু। 

বাংলাদেশ থেকে কি ইউটিউব চ্যানেল খুলে ইনকাম করা সম্ভব

আগে বাংলাদেশ থেকে ইউটিউব চ্যানেল খুলে ইনকাম করা সম্ভব ছিলো না। এখন এটি সম্ভব। অনেকেই এই কাজ করে প্রচুর পরিমান টাকা ও ইনকাম করছে। 

বাংলাদেশ থেকে ইউটিউব চ্যানেল খুললে কি পরিমান টাকা ইনকাম হবে

বাংলাদেশ থেকে ইউটিউব চ্যানেল খুলে কি পরিমান টাকা ইনকাম করা যাবে তা আমার পক্ষে বলা সম্ভব না। কারনটা হচ্ছে- কে মাসে কত টাকা ইনকাম হবে করবে সেটা আপনার ভিডিও এর ভিউ এর উপর নির্ভর করে।

আপনার ভিডিও এর কোয়ালিটি যত ভালো হবে, যত ভালো কন্টেন্ট তৈরি করতে তত পারবেন আপনার ভিউ তত বেশি হবে। ভিউ যত বেশি হবে আপনার ইনকাম তত বেশি হবে। তাই আপনি মাসে কত টাকা ইনকাম করবেন তা আমার পক্ষে বলা সম্ভব না।

    * একটি ভিডিও এর ভিউ যত হবে অপর একটি ভিডিও এর ভিউ ও যদি ততই হয় তাহলে কি ইনকাম সমান হবে?

না, বন্ধুরা ইনকাম সমান হবে না। আপনাকে এই বিষয়টি বোঝানোর জন্য একটি ব্যাখা দেয়া প্রয়োজন। তাহলে আপনারা এটি বুঝতে সক্ষম হবেন। 

মনে করুন, আপনি একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। সেই ভিডিও টি ৪ মিনিট এর। এখন সেই ভিডিও তে অ্যাডসেন্স সর্বোচ্চ একটি অ্যাড বসাতে পারবে।

আবার, যখন আপনি অন্য একটি ভিডিও আপলোড করবেন তখন যদি সেই ভিডিও এর সময় ৩০ মিনিট এর হয়। তাহলে, অ্যাডসেন্স সেখানে একের অধিক অ্যাড বসাতে সক্ষম হবে।

মনে করুন, উপরের দুটি ভিডিও তে ভিউ সমান হলো। তাহলে, একটি ভিডিও তে অ্যাড এর পরিমান অন্য ভিডিও তে দেখানো অ্যাড এর দ্বিগুণ। এখন অ্যাড এর পরিমান যত বেশি হবে আপনার ইনকাম ও ততই বৃদ্ধি পাবে।

যারা দীর্ঘ সময় এর ভিডিও তৈরি করে তারা তাদের ইনকাম বৃদ্ধির জন্য আর একটি কাজ করে থাকে। সে কাজটি হচ্ছে তারা তাদের ভিডিও তে মাঝে মধ্যে কিছু অ্যাড ঢুকিয়ে দেয়। তারা যে কোম্পানি এর অ্যাড দেয় সে কোম্পানি থেকে টাকা নেয় প্লাস অ্যাডসেন্স থেকে টাকা ইনকাম করে। এভাবে তারা বেশি টাকা ইনকাম করে থাকে।

ইউটিউবে কি কি উপায়ে টাকা ইনকাম করা যায়

ইউটিউব থেকে যেসব বেশ কিছু উপায়ে টাকা ইনকাম করা যায়। তার মধ্যে যেসব কাজ বেশি করা হয় সেগুলো নিয়ে আমরা আজকে আলোচনা করবো। ইউটিউবে যেসব কাজ করা হয় তার মধ্যে জনপ্রিয় গুলো হচ্ছে-

১. অ্যাডসেন্স

২.নিজের প্রডাক্ট বিক্রি করে

৩.অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে

এগুলোর সাথে আরও একটি কাজ আছে যেই কাজটির মাধ্যমে ইউটিউব থেকে সরাসরি ইনকাম করতে পারবেন না। অর্থাৎ ইউটিউব থেকে ইনকামের মূল কেন্দ্র হিসেবে নিতে পারবেন না। কিন্তু,যখন আপনার ইউটিউব এর ইনকাম শুরু হবে তখন আপনি এই কাজটির মাধ্যমে নিজের ইনকাম বাড়িয়ে নিতে পারবেন। সেই কাজটি হচ্ছে স্পনার করা। এটির মাধ্যমে আপনি আপনার ইনকাম কিছুটা হলেও বৃদ্ধি করতে পারবেন। 

এখন চলুন উক্ত বিষয় গুলো নিয়ে একটু আলোচনা করে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক-

অ্যাডসেন্স থেকে ইনকাম

বর্তমানে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে অ্যাডসেন্স। কারনটা হচ্ছে অ্যাডসেন্স থেকে ইনকাম টা অন্যান্য কাজ গুলোর চেয়ে বেশি পরিমানে হয়ে থাকে। 

আপনার ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও যত বেশি ভিউ হবে আপনার ইনকাম ও তত বেশি বৃদ্ধি পাবে। 

নিজের প্রোডাক্ট বিক্রি করে ইনকাম

আপনার যদি কোন নিজস্ব ভালো মানের একটি দোকান বা মার্কেট থাকে। তাহলে, আপনি সেই দোকানের জিনিসপত্র সমূহ অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন। এটাকে বলা হয় ই-কমার্স। 

আপনি প্রথমে আপনার দোকানের জিনিসপত্র সমূহের ভিডিও অনলাইনে আপলোড করুন। তারপর সেসব জিনিসপত্র অনলাইনে বেচুন। এভাবে আপনার দোকানের বিক্রি বেড়ে যাবে। পাশাপাশি আপনার ইউটিউবিং করার ইচ্ছা ও পুরন হবে। 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করুন

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নাহয় করবেন। সবাই তো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে জানে না। তাই আমার মনে হয়, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে লেখার আগে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কাকে বলে তা বলে দেয়া ভালো। 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কাকে বলে

অনলাইনে কিছু ই-কমার্স সাইট আছে। দেশের মধ্যে যেসব ই-কমার্স সাইট আছে সেসব ই-কমার্স সাইট এর পন্য গুলো সেল করাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলে। আপনাদের বোঝানোর জন্য একটি উদাহরণ দেয়া যাক-

ধরুন, একজন ডাক্তার রয়েছে। আপনি তার হয়ে কাজ করেন। আপনার কাজটি হচ্ছে রোগীদের তার কাছে নিয়ে যাওয়া। আপনি যত রোগী নিয়ে যেতে পারবেন ডাক্তার এর ততই লাভ হবে। সেই লাভের একটা অংশ ডাক্তার আপনাকে দেবে। আপনি যত রোগী নিয়ে যেতে পারবেন আপনার ইনকাম ও ততই বৃদ্ধি পাবে। 

এখন এই কাজটি শুধু আপনাকে ইউটিউবে করতে হবে। তবে, এখানে কোন ডাক্তার এর জন্য না। ই-কমার্স সাইট গুলোর জন্য। আপনি যে কোন ভালো একটা ই-কমার্স সাইটের পন্য সেল করতে পারেন। অথবা কোন কোম্পানি এর হয়ে ও কাজ করতে পারবেন। এভাবে আপনি যত পন্য বিক্রি করবেন আপনার ইনকাম ও ততই বৃদ্ধি পাবে। 

অ্যাডসেন্স নেওয়ার জন্য যেসব শর্ত মেনে চলতে হবে

ভিডিও ও কন্টেন্ট আপনার নিজের হতে হবে। অন্য কারো কপি করা যাবে না। ১০০০ সাবসক্রাইবার হতে হবে এবং শেষ ১২ মাসের মধ্যে ৪০০০ ঘন্টা ভিডিও বিউ থাকতে হবে। তবেই, আপনি অ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এক্সট্রা টিপস

আপনারা ইউটিউব থেকে ইনকাম করার জন্য গুগল অ্যাডসেন্স ব্যবহার করুন। এটি হচ্ছে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। 

প্রথমে একটা ইউটিউব চ্যানেল খুলুন। তারপর যে বিষয়ে আপনি দক্ষ সে বিষয়ের উপর ভিডিও তৈরি করুন। আপনি যদি কোন বিষয়ের উপর দক্ষ না হয়ে থাকেন তবে, যে বিষয়ের উপর আপনার জ্ঞান আছে যে বিষয় সম্পর্কে ভিডিও তৈরি করতে থাকুন। এই কাজ করলে ভিডিও তৈরিতে আনন্দ পাবেন। নয়তো যে বিষয় সম্পর্কে আপনি জানেন না সে বিষয় সম্পকে ভিডিও তৈরি করতে গেলে ইউটিউবিং করতে আপনারই বিরক্ত লাগবে। ভিডিও এর কন্টেন্ট ভালো মানের না হলে ভিউ ও পাবেন না।

শেষ কথা

আপনি যখন ইউটিউব চ্যানেল খুলবেন তখন প্রথম প্রথম আপনার চ্যানেলের ভিউ কম হবে এতে ধৈয্য হারা না হয়ে, ধৈয্য ধরে কাজ করে। সফলতা আপনার হাতের মুটোই আসবে। আপনার এই বিষয় সম্পকিত কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানান। 

Related Articles
Comments
MD SUHAN CHOWDHURY - Apr 24, 2022, 2:52 PM - Add Reply

ধ্যনবাদ

You must be logged in to post a comment.

You must be logged in to post a comment.

লেখক সম্পর্কেঃ

ছাত্র

আপনার জন্য আরও লেখা: